প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৫, ০৪:১০ পিএম
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকৈ পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তায় উভয়পাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে ১ সেস্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা জারি করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারার আদেশে বলা হয়েছে, উল্লেখিত সময়ে এই এলাকায় সব প্রকার সভা সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সকল প্রকার দেশী অস্ত্র ইত্যাদি বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষে উভয় পক্ষই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় চবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), প্রক্টরসহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পরিচালক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মতো আহত শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।’
আহতদের সঙ্গে থাকা চবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন উর রশীদ মামুন বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল ভর্তি হয়েছেন। বাসে করে এখনও আহতদের আনা হচ্ছে।’
এর আগে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী তার ফ্ল্যাট বাসায় প্রবেশ করতে চাইলে তাকে মারধর করে বাসার দারোয়ান। তবে আশপাশের শিক্ষার্থীদের দেখে দারোয়ান পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ঘটনার জের ধরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেইট সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বহু শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর রোববার সকাল থেকেই পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এছাড়া আহতদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আজকের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।