রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

দেশে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বড় বন্যার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে ৩০ জেলা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৫, ১০:০৯ এএম

দেশে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বড় বন্যার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে ৩০ জেলা

চলতি বছরের আগস্টের শেষ ভাগ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে বর্ষাকালের স্বাভাবিক একটি বড় বন্যা দেখা দিতে পারে। কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ এই তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগের মধ্যে পদ্মা, যমুনা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদঘেঁষা প্রায় ২০ থেকে ৩০টি জেলা প্লাবিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, ২০২০ সালের পর এ পর্যন্ত দেশে প্রকৃত অর্থে বড় কোনো বর্ষার বন্যা দেখা যায়নি। যদিও মাঝেমধ্যে আঞ্চলিক বা পাহাড়ি ঢলের মতো বন্যা হয়েছে। তার মধ্যে ২০২২ সালে সিলেটে ফ্লাশ ফ্লাড, ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢল অন্যতম।

তবে এসব ছিল মূলত হঠাৎ আসা স্বল্পস্থায়ী বন্যা। পলাশের মতে, এবার যে ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত বর্ষাকালের স্বাভাবিক বন্যা হতে পারে।

তিনি জানান, বন্যাটি যদি বাস্তবে ঘটে, তবে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে-পদ্মা নদী তীরবর্তী জেলাগুলোতে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অংশেও গুরুতর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলে অগণিত মানুষ ও কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন, এই বন্যা ১৫ আগস্টের পর থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে প্রবেশ করতে পারে।

মোস্তফা কামাল পলাশের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্টের বাকি সময়ে বঙ্গোপসাগরে পরপর দুটি মৌসুমি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। প্রথমটি ১৩ থেকে ২২ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এবং দ্বিতীয়টি ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম লঘুচাপের ফলে গঙ্গা অববাহিকায় ও দ্বিতীয়টির প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় টানা এক সপ্তাহ করে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রায় ১৫–২০ দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়া বিজ্ঞানে মেডেন-জুলিয়ান অসিলেশন (এমজেও), এল নিনো ও লা নিনার মতো সূচক মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বর্তমানে এমজেও’র সক্রিয় দশায় প্রবেশ করছে, যা ২৫ আগস্ট পর্যন্ত অতিবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসও আগস্টের অবশিষ্ট সময়ে বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের উপর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

পোস্টের একাংশে আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ লিখেছেন, আমি মনেপ্রাণে চাইবো, আমার পূর্বাভাসটি ভুল প্রমাণ হোক। দেশের মানুষ যেন বড় কোনো বন্যার সম্মুখীন না হয়, এটাই আমার কামনা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে কমবেশি বন্যার মুখোমুখি হয়। তবে বর্ষাকালের প্রকৃত ‘মেজর ফ্লাড’ সাধারণত কয়েক বছর পরপর ফিরে আসে। ইতিহাস অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর বড় বন্যা হয়েছে ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০১৬ ও ২০২০ সালে। এছাড়া ২০০৭ ও ২০১০ সালে ছোট আকারের বন্যা হয়েছিল, যা এল নিনো অবস্থা শেষ হওয়ার পর বর্ষায় ঘটেছিল। বর্তমানে নিরপেক্ষ আবহাওয়াগত অবস্থা বিরাজ করছে, যা ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত থাকতে পারে।

এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে সারা দেশেই বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়। রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়। রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা (১-৩) ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মাতৃভূমির খবর

Link copied!