প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম
গাজা সিটি দখল ও প্রায় দশ লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণের তথাকথিত ‘কনসেনট্রেশন জোনে’ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। তবে দখল ও বাস্তুচ্যুতির এই হুমকিকে উপেক্ষা করে শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবেন না। দুর্ভোগ, অনাহার ও মৃত্যুর আশঙ্কা সত্ত্বেও তাদের অঙ্গীকার— ‘আমরা এখানেই মরব।’
উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহরটি নিয়ে ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার খবরে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ভয় এবং প্রতিরোধের মনোভাব একসঙ্গে জেগে উঠেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে আবারও নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখলের এই পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে।
আহমেদ হির্জ নামের এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি প্রায় শতবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। তাই আমার কাছে এখানেই মরাই ভালো।’ ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি পরিবারসহ অন্তত আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো এখান থেকে যাব না। আমরা সহ্য করেছি দুর্ভোগ, অনাহার, নির্যাতন ও অমানবিক পরিস্থিতি। আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত— আমরা এখানেই মরব।’
আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেক বাসিন্দাই একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন। রাজাব খাদের বলেন, তিনি কোনোভাবেই দক্ষিণ গাজায় যাবেন না, ‘যাতে কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে রাস্তায় থাকতে না হয়।’
তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, ‘আমাদের গাজা সিটিতেই পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকতে হবে। ইসরায়েলিরা আমাদের দেহ আর আত্মা ছাড়া কিছুই পাবে না।’
উত্তর-পূর্ব বেইত হানুন থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া মাগযুজা সাদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দক্ষিণ নিরাপদ নয়, গাজা সিটি নিরাপদ নয়, উত্তরও নিরাপদ নয়। তাহলে আমরা কোথায় যাব? সমুদ্রে ঝাঁপ দেব?’
গাজা সিটি দখল পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান পাঁচ দেশের
গাজা সিটি দখলের ইসরায়েলি পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইতালি, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, এই পরিকল্পনা গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর করবে, জিম্মিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়াবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজা সিটি দখল আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তৈরি করছে। ‘যেকোনো ধরনের সংযুক্তিকরণ বা বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী।’
পাশাপাশি, হামাসকে সব জিম্মি মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং ইসরায়েলকে এমন সমাধান বের করার তাগিদ দেওয়া হয়।